
দৈনিক রিপোর্ট ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম দাবি করেছেন, ১/১১–এর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি)-এর একটি কক্ষে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং চলমান তদন্তে এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার ডিজিএফআই সদর দপ্তরে অবস্থিত জেআইসি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারক, প্রসিকিউশন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল পরিদর্শনে অংশ নেয়।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তাধীন বিভিন্ন মামলার অংশ হিসেবে এই পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে এই স্থানে আটক ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় ধরে গোপনে রাখা হতো এবং নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। পরিদর্শনের সময় সেই পরিবেশ ও বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ আরও অনেক ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় সেখানে আটক রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের গোপন আটককেন্দ্র বা নির্যাতনকেন্দ্র যেন আর গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিচার অবশ্যই আইনের মাধ্যমে হতে হবে। তবে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম কিংবা বেআইনি নির্যাতনের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে বিরোধী মতের রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন ব্যক্তিকে গোপনে আটক রেখে নির্যাতনের জন্য বিশেষ বন্দিশালা ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
