
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক রিপোর্ট
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নেওয়া হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্দেশ দেন, পরে সেই সিদ্ধান্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন করা হয়।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তৃতীয় দিনে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম এ দাবি করেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে প্রসিকিউশন একটি অডিও কথোপকথন আদালতে উপস্থাপন করে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, সেখানে ওবায়দুল কাদেরকে ইন্টারনেটের গতি কমানোর নির্দেশ দিতে এবং তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। পরে অনুমোদনের পর বিষয়টি কার্যকর করা হয় বলে প্রসিকিউশন আদালতে উল্লেখ করে।
প্রসিকিউটর আরও জানান, শুধু কথোপকথন নয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একটি নথিও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই নথিতে উল্লেখ রয়েছে, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে ইন্টারনেট সেবা সীমিত বা বন্ধ করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনার কথাও সেখানে উল্লেখ আছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে।
রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় দেশের ৫৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজারের বেশি স্থানে থ্রি-জি ও ফোর-জি মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এ সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্যও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা হয় বলে আদালতে দাবি করা হয়েছে।
এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফকে। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, মামলার সব আসামি বর্তমানে পলাতক।
উল্লেখ্য, বিষয়টি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
