নিজস্ব প্রতিবেদক
তীব্র খরার কারণে শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় ইয়ালা ন্যাশনাল পার্কের পানির উৎস ও ব্যস্ত কয়েকটি এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী সপ্তাহ থেকে প্রায় এক মাসের জন্য এসব এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
বন্যপ্রাণীদের পানির সংকট ও অতিরিক্ত গরমের চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইয়ালা ন্যাশনাল পার্কে বর্তমানে বিভিন্ন জলাশয়ে পানির স্তর কমে গেছে। প্রাণীদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ট্যাংকারে করে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
পার্কের বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা সুজিওয়া নিশান্থা বলেন, বর্তমানে প্রাণীদের অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় বন্যপ্রাণীরা যখন পানির উৎসে আসছে, তখন পর্যটকদের উপস্থিতি তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
ইয়ালায় চিত্রা হরিণ, বুনো মহিষ, ধূসর হনুমান ও চিতাবাঘসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী পানির জন্য এসব জলাশয়ের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পার্কের বিভিন্ন পানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত পানির ট্যাংকার পাঠানো হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কা প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ ও তীব্র খরার মুখোমুখি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পানি ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ জরুরি পানীয় জলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। খরার প্রভাবে ছোট কৃষিখামারগুলোও সবজি উৎপাদন ও গবাদিপশু পালনে সমস্যায় পড়ছে।
এদিকে, দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় কয়েক মাস ধরে আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের দিকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও বড় ধরনের খরা দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)ও এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। শ্রীলঙ্কা সরকারের আশঙ্কা, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এর প্রভাব দেশটিতে আরও তীব্র হতে পারে।
পর্যটন শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাই পর্যটন মৌসুম শুরুর আগে ইয়ালা ন্যাশনাল পার্কের জনপ্রিয় এলাকাগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত দেশটির পর্যটন খাতের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। তবে পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে পর্যটকদের জন্য এলাকাগুলো আবার খুলে দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে বন্যপ্রাণীদের পানির সংকট মোকাবিলাই সবচেয়ে জরুরি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটন কার্যক্রম সীমিত রেখে প্রাণীদের নিরাপদে পানির উৎসে পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়াই কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।

