আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কলকাতায় হোটেল ও গেস্টহাউসের অগ্নিনিরাপত্তা যাচাই এবং প্রশাসনিক অভিযানের জেরে সমস্যায় পড়েছেন চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। বিশেষ করে হাসপাতালসংলগ্ন এলাকাগুলোর কম খরচের আবাসনগুলো বন্ধ বা সীমিত হওয়ায় অনেককে বিকল্প থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে।
কেন হোটেল-গেস্টহাউসে অভিযান?
গত ১৯ আগস্ট কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়, যাঁদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এরপর কলকাতা পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিস শহরের হোটেল, লজ ও গেস্টহাউসগুলোতে নিরাপত্তা যাচাই জোরদার করে।
কলকাতা পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৬০টি হোটেল ও গেস্টহাউস পরিদর্শন করে ৯১৯টিকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নোটিশ দেওয়া হয়। মাত্র ৪১টি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় মৌলিক অগ্নিনিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করেছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, সেগুলোকে নিয়ম মেনে সংস্কার ও অনুমোদন নেওয়ার পর পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া হবে। তবে আবাসিক ভবনকে অননুমোদিতভাবে গেস্টহাউসে রূপান্তর করা হলে পুনরায় লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় হাসপাতালসংলগ্ন এলাকার রোগীরা
কলকাতার মুকুন্দপুর, ইএম বাইপাস, ঠাকুরপুকুরসহ হাসপাতালঘেঁষা এলাকায় অনেক বাজেট গেস্টহাউস রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগী ও স্বজনেরা থাকেন। হোটেল-গেস্টহাউস বন্ধের অভিযানে এসব এলাকার অনেক আবাসন নতুন অতিথি নেওয়া বন্ধ করেছে।
বিশেষ করে কম আয়ের রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা বেশি চাপে পড়ছেন। বড় ও অনুমোদিত হোটেলের ভাড়া তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাঁদের জন্য বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা চলাকালে থাকার জায়গা পরিবর্তন করতেও হচ্ছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থার উদ্যোগ
রোগীদের এ সমস্যার কথা বিবেচনায় নিয়ে কলকাতার কিছু হাসপাতাল অনুমোদিত গেস্টহাউস ও হোটেলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। রোগীরা কলকাতায় যাওয়ার আগেই নিরাপদ ও বৈধ আবাসন বুক করতে পারেন—এ জন্য হাসপাতালগুলোর পক্ষ থেকে তালিকা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের আবাসনসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
হোটেল ব্যবসার পাশাপাশি প্রভাব পড়ছে অন্যান্য ব্যবসায়
গেস্টহাউস ও বাজেট হোটেল বন্ধ হওয়ার প্রভাব পড়ছে আশপাশের রেস্তোরাঁ, ওষুধের দোকান, মানি এক্সচেঞ্জ, ট্রাভেল এজেন্সি ও অন্যান্য সেবামূলক ব্যবসাতেও। বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ওপর নির্ভরশীল কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পুরোনো ভবনগুলোর প্রয়োজনীয় নকশা, ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ও অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করাও অনেক ব্যবসায়ীর জন্য জটিল হয়ে উঠেছে।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নিরাপত্তা মান পূরণ করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে পারলে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো ধাপে ধাপে আবার চালু করা যাবে।
নোট: স্থানীয় একজন গেস্টহাউস ব্যবস্থাপকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে পৌরসভার কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এটি অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; স্বাধীনভাবে এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।
