ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার উৎসবে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকার একটি পূজামণ্ডপের বের হওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারী বৃষ্টির কারণে পূজামণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী একসঙ্গে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ভারী বৃষ্টির পর বের হওয়ার পথে দুর্ঘটনা
দুর্গাপূজা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উপলক্ষে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী পূজামণ্ডপ তৈরি করা হয়, যেখানে দেবী দুর্গার প্রতিমা দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গিরিশ পার্ক এলাকার পূজামণ্ডপের বের হওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ভারী বৃষ্টির পর একসঙ্গে অনেক দর্শনার্থী বের হতে গেলে সেখানে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়।
এ ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। তবে আহতদের মধ্যে কতজনের অবস্থা গুরুতর, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা
দুর্ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির পরিবারের নিকটাত্মীয়কে দুই লাখ রুপি এবং আহত প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে দেওয়া হবে।
উৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
দুর্গাপূজার সময় কলকাতার পূজামণ্ডপগুলোতে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়। ফলে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ব্যবস্থাপনা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গিরিশ পার্কের এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স।

