নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার
কক্সবাজারের সোনাদিয়া চ্যানেলে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ নিউজিল্যান্ডের ১৩ বছর বয়সী কিশোর আলবার্টের মরদেহ ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নাজিরারটেকের কুতুববাজার সৈকতে মরদেহটি ভেসে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরারটেক উপকূল থেকে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামের একটি নৌযানে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এডওয়ার্ড। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী বেলা (৩৬) এবং দুই ছেলে আলবার্ট (১৬) ও রালফ (১৩)।
চট্টগ্রামের পথে প্রায় দুই কিলোমিটার যাওয়ার পর মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে বড় ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌযানটি। একপর্যায়ে দুটি নৌকা জোড়া দিয়ে তৈরি ‘আইল্যান্ড গার্ল’ ভেঙে দুই অংশ হয়ে উল্টে সাগরে ডুবে যায়।
এ সময় আশপাশে থাকা মাছ ধরার নৌকার জেলেরা এডওয়ার্ড, তাঁর স্ত্রী বেলা ও ছেলে রালফকে উদ্ধার করেন। তবে বড় ছেলে আলবার্ট নিখোঁজ ছিল।
পুলিশ জানায়, পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় এডওয়ার্ড ও ছোট ছেলে রালফ নৌকার ডেকে ছিলেন। বেলা ছাউনির নিচে বসে আলবার্টকে লাইফ জ্যাকেট পরাচ্ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে নৌযানটি ভেঙে গেলে আলবার্ট পানিতে পড়ে যায়। তাঁর লাইফ জ্যাকেটের ক্লিপ ঠিকমতো আটকানো ছিল কি না, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানান, আলবার্ট সাঁতার জানত না।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তা কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
দুই বছর ধরে তৈরি হয়েছিল ‘আইল্যান্ড গার্ল’
স্থানীয় বাসিন্দা ও নৌকা নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের এসএমপাড়া এলাকার একটি ডকে প্রায় দুই বছর ধরে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নির্মাণ করা হয়। দুটি নৌকা জোড়া দিয়ে তৈরি এ নৌযানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ফ্রিজ ও রান্নাঘরসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা ছিল।
নৌকাটি নির্মাণের পর এডওয়ার্ড পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজার, মহেশখালী ও সোনাদিয়া চ্যানেলে কয়েকবার ভ্রমণও করেছিলেন। তবে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রার সময় সোনাদিয়া চ্যানেলে বড় ঢেউ ও স্রোতের মধ্যে পড়ে নৌযানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং নৌযানটি

