কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহত ব্যক্তিরা পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে তাঁদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে রিসোর্টের ভেতরে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
রিসোর্টে ছিলেন ১৭ পর্যটক
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে মোট ১৭ জন পর্যটক ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রিসোর্টটির রান্নাঘর থেকে বিকট শব্দ শোনার পর আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে থাকা পর্যটকেরা বিপদের মুখে পড়েন। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ও পরিচয় নিশ্চিত করতে সময় প্রয়োজন। উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ করছেন। রিসোর্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’—নারীর আহাজারি
অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টের সামনে এক নারী পর্যটকের কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাঁকে ‘আমার সাইফকে আইন্না দাও’ বলে আহাজারি করতে দেখা যায়।
জানা গেছে, দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন ওই নারী। তবে সাইফ তাঁর কী সম্পর্কের, তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কি না কিংবা তাঁর বর্তমান অবস্থা কী—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের খোঁজ নেই বলে অভিযোগ
অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজনকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, প্রাণহানির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কর্তৃপক্ষের লোকজন সেখান থেকে চলে গেছেন।
তবে কর্তৃপক্ষের লোকজনের বর্তমান অবস্থান, অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা।

