নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ও সাবেক-বর্তমান তিন সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার দেখানো চারজন হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম ও সাবেক কর্নেল মো. আনোয়ার লতিফ খান।
আবদুর রহমান বদি কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। মাহবুব আলম র্যাবের সাবেক পরিচালক, মিফতাহ উদ্দিন র্যাবের সাবেক কমান্ডার এবং আনোয়ার লতিফ খান র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালে চার আসামিকে হাজির করার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের একরামুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মাহবুব আলম ও আনোয়ার লতিফ খান মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্য একটি মামলায় ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে রয়েছেন। মিফতাহ উদ্দিন সেনা হেফাজতে এবং বদি কারাগারে রয়েছেন।
মামলায় মোট আসামি ১১ জন। তাঁদের মধ্যে পলাতক সাতজন হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) রুহুল আমিন (রাজন), সাবেক কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশেকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
এই সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তাঁদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একরামুল হক নিহত হন। তিনি দীর্ঘদিন টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

