২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল একযোগে প্রকাশ করা হয়। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে
এবার কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন।
বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫০ জন। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন।
দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন। অন্যদিকে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২০ জন।
১২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী
এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
গত ২ জুলাই এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন কারণে কয়েকটি পরীক্ষার সূচিতেও পরিবর্তন আনতে হয়।
এদিকে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে শুধু ফেল করা বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণাও এসেছে। এতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা না করেই ফল উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

