রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তবে অভিযানের সময় লাইসেন্স করা পিস্তল বের করার ঘটনায় যে সমালোচনা হচ্ছে, তা ইতিবাচকভাবে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এসব কথা বলেন। তাঁর মতে, মাদকের বিরুদ্ধে ইশরাকের দৃঢ় অবস্থান প্রশংসনীয় হলেও একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে আরও সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মাদকবিরোধী অবস্থানের প্রশংসা রাশেদের
পোস্টে ইশরাক হোসেনকে তরুণ ও সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ইশরাক দেশের নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন। একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি দেশকে মনেপ্রাণে ধারণ করেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা রাখেন।
রাশেদ খান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ইশরাকের জোরালো অবস্থান প্রশংসার দাবি রাখে। তবে মাদকসেবীদের সম্ভাব্য আক্রমণের আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য পিস্তল বের করার বিষয়টি নিয়ে অনেকে সমালোচনা করছেন। এসব সমালোচনা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পিস্তল বের করার বিষয়ে কী বলেছিলেন ইশরাক?
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। অভিযানের সময় তাঁর হাতে পিস্তল দেখা যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রটি তিনি আত্মরক্ষার জন্য সাময়িকভাবে বের করেছিলেন। তাঁর দাবি, একদল লোক তাঁদের গাড়িবহরের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে আসায় নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, কাউকে অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো বা গুলি করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।
জনসচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ
রাশেদ খান বলেন, মাদকের প্রভাবে কেউ কেউ জনপ্রতিনিধি, পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও চিনতে পারেন না। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে।
তাঁর মতে, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইশরাকের উচিত নিজ এলাকায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করা। এতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তাঁর বক্তব্য, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে দুর্বলতা থাকলে জনসচেতনতা ও সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পিস্তল প্রদর্শনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ
ইশরাকের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশও পর্যবেক্ষণ করছে। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের ভূমিকার প্রশংসা করলেও রাশেদ খান পিস্তল প্রদর্শনের বিষয়ে সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।

