আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রদেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্কুল বন্ধ, ইন্টারনেট সেবায় বিধিনিষেধ এবং সড়কে কনটেইনার দিয়ে অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা জোরদারে প্রদেশটিতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রদেশটির বারা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
পিটিআই নেতাদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় পুলিশ সমর্থকদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়েছে। তবে পুলিশের গুলিবর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রাদেশিক প্রশাসন।
জরুরি অবস্থা জারি নিয়ে উত্তেজনা
জঙ্গি সহিংসতা বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গত রোববার (১১ অক্টোবর) খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিত করে অঞ্চলটির ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের অজুহাত হিসেবে বর্ণনা করেছে পিটিআই। দলটির নেতাদের দাবি, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে পরিকল্পিত কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
প্রাদেশিক প্রশাসনের তথ্য ব্যবস্থাপক সামার হারুন বিলুর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, পুলিশের সরাসরি গুলিবর্ষণের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও ব্যবহার করে বেনামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে এসব অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ পরিকল্পিত দাঙ্গা ও ভাঙচুরের জবাব দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চারটি মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইমরান খানের সহযোগী ও পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করে সংঘর্ষের চিত্র তুলে ধরার দাবি করেন। তিনি জরুরি অবস্থা জারি ও গভর্নরের শাসন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপকে অভ্যুত্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে সংঘর্ষের ভিডিও এবং গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
বারা এলাকায় পাঁচজন আহতের দাবি
পিটিআই নেতাদের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে গুরুতর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের বারা এলাকায়।
পিটিআইয়ের তথ্যসচিব ইকরাম খাটানা অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বারা এলাকায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের (নাদরা) একটি কেন্দ্রে আগুন দিয়েছে। আশপাশের কয়েকটি কার্যালয়েও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সামার হারুন বিলুর।
আরও গভীর হচ্ছে ইমরান খানের রাজনৈতিক সংকট
খাইবার পাখতুনখোয়ায় পিটিআই নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিতের ঘটনা ইমরান খানের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
সামরিক স্থাপনায় হামলায় উসকানি, দুর্নীতিসহ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান খান দাবি করে আসছেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতেই মামলাগুলো করা হয়েছে।
এদিকে, ইমরানের স্ত্রী, তিন বোন এবং তাঁর দলের বহু নেতাকর্মীও বিভিন্ন সময়ে আটক হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও দৈনিক যুগান্তর।

