নিজস্ব প্রতিবেদক
চলমান আমন মৌসুমে সারের চাহিদা পূরণে সরকার আরও ৭০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের সার কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি ও ৩০ হাজার টন টিএসপি সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার কেনার জন্য প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯৪ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৪৪১ কোটি টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে ডিএপি সারের দাম সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ অনুযায়ী, জুলাই মাসে ডিএপির গড় দাম ছিল প্রতি টন ৭৮১ ডলার। এর আগে গত ২৪ আগস্ট সরকার প্রতি টন ৮৯১ ডলার দরে ডিএপি কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল।
এ ছাড়া মরক্কো থেকে আরও ৩০ হাজার টন টিএসপি সার কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। প্রতি টন টিএসপির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬৯ দশমিক ৩৩ ডলার।
তবে ডিএপির দাম বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে টিএসপির দাম কমেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে টিএসপির গড় দাম ছিল প্রতি টন ৭১৯ ডলার।
চলতি আমন ও পরবর্তী বোরো মৌসুমের চাহিদা মেটাতে সরকার সার আমদানি বাড়িয়েছে। সারের সংকট এড়াতে গত আগস্টের শেষ দুই সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দেশে আমন মৌসুম সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর এবং বোরো মৌসুম অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চলে। এই দুই মৌসুমে দেশের মোট ধান উৎপাদনের ৯০ শতাংশের বেশি হয়। এ সময় প্রয়োজন হয় ৪৩ লাখ টনেরও বেশি রাসায়নিক সার।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৬৬ লাখ টন সার ব্যবহার হয়। এর মধ্যে ধান চাষেই মোট সারের প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। দেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে দেশের সার সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

