আদালত প্রতিবেদক, ঢাকা
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে একই মামলায় তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে আপসনামার ভিত্তিতে জামিন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফায়েত উল্লাহ ৫ হাজার টাকার মুচলেকায় মাকসুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে দেওয়া জামিন আবেদনে বলা হয়, মামলার বাদীপক্ষের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলামের আপস হয়েছে। বাদীর জামিনে কোনো আপত্তি নেই। শুনানির সময় বাদী আদালতে উপস্থিত থেকে এ বিষয়ে সম্মতিও জানান।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, আপসের শর্তে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলামের জামিন চাওয়া হয়েছিল। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন। বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস হওয়ার পর শুনানিতে বাদী জামিনে আপত্তি না করার কথা জানিয়েছেন।
এর আগে একই মামলায় দুই দফায় আট দিন করে রিমান্ড শেষে সোমবার গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
গত ২২ সেপ্টেম্বর এক দিনের রিমান্ড শেষে মাকসুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন আদালত। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর মেরিয়মের মামা ও নজরুলের মামা-শ্বশুর ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে এনএএম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মেরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে মেরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ গাজী নজরুল ইসলাম, মাকসুদা ইসলাম ও ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় তাঁর মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এর আগে ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মেরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফেসবুক পোস্টে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী।

