বিশেষ প্রতিবেদক
আগামী বছর থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর ফলে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে নির্ধারিত খাবার পাবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী বছর দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সময়ে দেশের সব উপজেলায় এ কর্মসূচি চালুর লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে ১৯ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে কর্মসূচি
প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষুধা ও অপুষ্টিকে শিক্ষার অন্যতম বাধা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়। বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় খাবার পাচ্ছে।
এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়ার হার কমানো এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা।
বর্তমানে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন দিনে শিক্ষার্থীদের বান রুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। সপ্তাহের দিন অনুযায়ী খাবারের তালিকায় পরিবর্তন থাকে।
খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে দেশের কয়েকটি এলাকায় খাবারের মান ও সরবরাহ নিয়ে অভিযোগও উঠেছে। কোথাও পচা বা কাঁচা কলা, নিম্নমানের বান রুটি এবং নষ্ট সেদ্ধ ডিম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, কর্মসূচির শুরুতে যে দুর্বলতাগুলো ছিল, সেগুলো অনেকটাই কমে এসেছে। তিনি নিজে গত এক মাসে ১২ থেকে ১৪টি জেলা পরিদর্শন করে কর্মসূচির বাস্তব অবস্থা দেখেছেন বলেও জানান।
আগামী বছর সারাদেশে কর্মসূচি চালুর সময় খাবারের ধরনে পরিবর্তন আসবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুষ্টিমান ঠিক রেখে খাবারের ধরনে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাড়বে কর্মসূচির ব্যয়
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১৫০ উপজেলায় চলমান স্কুল ফিডিং কর্মসূচির তিন বছরের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা।
দেশের বাকি ৩৪৮ উপজেলায় কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হলে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এটি চালু করতে মোট ব্যয় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।
দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি।

