আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২২ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অভিনন্দন বার্তায় কী বললেন পেজেশকিয়ান?
পেজেশকিয়ান তাঁর বার্তায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচনে বাংলাদেশের আইনপ্রণেতাদের আস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতির অঙ্গীকার, দূরদর্শিতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য স্থিতিশীলতা, কল্যাণ ও অগ্রগতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়—আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইরান আগ্রহী।
নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা
অভিনন্দন বার্তার শেষাংশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।
বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্কের জন্য এর অর্থ কী?
পেজেশকিয়ানের এই বার্তা বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ককে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। সামনের দিনে দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান ও স্বার্থের জায়গাগুলোতে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তেহরানের পক্ষ থেকে এমন বার্তা বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
মির্জা ফখরুল এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০ আগস্ট ২০২৬ জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। পরদিন ২১ আগস্ট তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের প্রেসিডেন্টের বার্তায় দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার আগ্রহ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
মূল কথা: বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে ইরান কেবল শুভেচ্ছা দেয়নি; বরং দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও গভীর করা এবং দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারেও নিজেদের আগ্রহ স্পষ্ট করেছে।
Source: Pezeshkian
