ভারতের কলকাতায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক কিশোর ও তার বাবাকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অন্তর্বাস পরিয়ে রাস্তায় হাঁটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার গ্রেপ্তার হওয়া তিন ব্যক্তিকে খালি পায়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তাঁদের কোমরে দড়ি বাঁধা ছিল এবং দুই পাশে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন। এ সময় পথচারীদের কয়েকজনকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়।
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অপরাধের ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে এ বিষয়ে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
কী ঘটেছিল ওই কিশোরের সঙ্গে?
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার ওই কিশোর এক বন্ধুকে নিয়ে কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে যায়। কিশোরীকে চুমু দেওয়ার সময় তার এক চাচা বিষয়টি দেখতে পান বলে অভিযোগ। পরে তিনি কিশোরীর বাবা ও আরেক চাচাকে বিষয়টি জানান।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর তাঁরা ওই কিশোর ও তার বন্ধুকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুজনকে মারধর করা হয় এবং কিশোরকে তার মা-বাবাকে ডেকে আনতে বাধ্য করা হয়। পরে কিশোরের মা-বাবাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কিশোর ও তার পরিবারের দাবি, তাঁদের সামনে কয়েকটি বিকল্প তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল পুলিশের কাছে মামলা দেওয়া, গুলি করে হত্যা করা অথবা নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় ঘুরে সেই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা। এরপর কিশোর ও তার বাবাকে নগ্ন করে ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সোমবার সকালে ক্ষুব্ধ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিশোরের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাচেষ্টা, মারধর, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, অপহরণ ও অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক ধারায় মামলা করেছে। কিশোরীর মা-বাবাসহ কয়েকজন স্বজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। গ্রেপ্তার হওয়া মানেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন নয়।
ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
কলকাতার এ ঘটনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনেও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও সংসদ সদস্য সৌগত রায় ঘটনাটিকে ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খান অভিযুক্তদের তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। তবে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে করা দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত চলছে। কিশোর ও তার পরিবারের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

