হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন খারিজ করা হয় বলে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর একই মামলায় তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। এক দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিমানবন্দরে কী ঘটেছিল?
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফেরেন। তাঁদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় যান। ওই সময় যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট এবং দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রলি সংগ্রহের নিয়ম অনুসরণ করা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পাশাপাশি লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে বিমানবন্দরের কর্মীদের বিরোধের সৃষ্টি হয়।
সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার সময় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।
গত ২ অক্টোবর এ মামলায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে ৪ অক্টোবর তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে প্রথম দফায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রম
আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় মামলাটির পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়ার বিষয় এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।
আদালতের পরবর্তী আদেশ ও মামলার অগ্রগতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

