জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মো. মুছা মিয়া (৩৩) নামে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
২০২০ সালের ঘটনায় মামলা
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ভুক্তভোগী শিশুটির বয়স ছিল ১৫ বছর। সে প্রতিদিন সকালে স্থানীয় একটি মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন মুছা মিয়া।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ইমাম বিভিন্ন সময়ে অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে ভুক্তভোগীকে মসজিদে রেখে দিতেন। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে একই বছরের ১ ও ২ ডিসেম্বর আরও দুইবার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
পরিবারের কাছে ঘটনা প্রকাশ
ঘটনার পর শিশুটির আচরণ ও মানসিক অবস্থায় পরিবর্তন লক্ষ করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে শিশুটি তাঁদের কাছে নির্যাতনের কথা জানায়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করেন।
তাঁদের পরামর্শে শিশুটির মা বাদী হয়ে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
১০ জনের সাক্ষ্য, জরিমানার অর্থ পাবে পরিবার
জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ভুক্তভোগী শিশুসহ মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
আদালত জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে এ রায়।

