টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষককে চড় মারার ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন অল্টারনেটিভসের সংগঠক তাজনূভা জাবীন। তাঁর মতে, ওই চড়ের সঙ্গে শিশু নির্যাতনের বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ এবং ধর্মের নামে নৈতিকতার কথা বলা ব্যক্তিদের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদের অনুভূতি জড়িয়ে আছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন তিনি। পোস্টে ঘটনাটিকে কোটি মানুষের প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন তাজনূভা জাবীন।
‘এই চড় একটা প্রতীক’
ফেসবুক পোস্টে তাজনূভা জাবীন লেখেন, শিশুদের ওপর নির্যাতনের বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ এবং অসংখ্য বাবা-মায়ের আবেগ ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।
তিনি লেখেন, ‘এই চড় একটা প্রতীক। কোটি কোটি মানুষের প্রতিবাদের ভাষা এই চড়। চোখ বুলায়ে দেখেন ওই কোটি কোটি মানুষের মধ্যে সব বর্গের মানুষ আছে।’
তাজনূভা জাবীনের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘিরে মানুষের প্রতিক্রিয়ার পেছনে রয়েছে শিশু নির্যাতন, বিচারহীনতা এবং ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা না বলার মতো বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ।
গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য
পোস্টে তাজনূভা জাবীন আরও মন্তব্য করেন, সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করলে তা মানুষের আবেগের বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
তাঁর ভাষ্য, এমন সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে ওই বক্তব্যে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সরকারি সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক তথ্য তুলে ধরেননি।
টঙ্গীর ঘটনার পর শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের অভিযান বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার খবরকে বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের কোনো সিদ্ধান্ত পুলিশ নেয়নি।
ধর্মের নামে রাজনীতি করা ব্যক্তিদের সমালোচনা
তাজনূভা জাবীন তাঁর পোস্টে ধর্মের নামে রাজনীতি করা ব্যক্তিদের একাংশের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, মাদ্রাসায় নির্যাতন ও অন্যায়ের অভিযোগের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সোচ্চার না হওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
তিনি লেখেন, ‘আর যারা শুধু ধর্মের নামে রাজনীতি করেন কিন্তু মাদ্রাসার এই নির্যাতন, এই ভয়াবহ অন্যায় নিয়ে কথা বলেন না, জোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেন না, জেনে রেখেন আজ হোক আর কাল হোক এই চড় আপনাদের ভোট বক্সেও পরবে, আপনাদের মোনাফেকির উপরও পরবে।’
তাঁর বক্তব্যে শিশুদের নিরাপত্তা, নির্যাতনের অভিযোগের বিচার এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
‘জনগণের মনোভাব বোঝা জরুরি’
পোস্টের শেষাংশে তাজনূভা জাবীন বলেন, ঘটনাটির তাৎপর্য অনুধাবন করাকে শুধু জনপ্রিয়তাবাদী রাজনীতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এর মধ্য দিয়ে মানুষের মনোভাব ও আবেগ বোঝার বিষয়টি সামনে আসে।
তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, শিশু নির্যাতনের অভিযোগের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে জনগণের ক্ষোভ ও প্রত্যাশা বুঝতে পারা রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং ঘটনার আইনগত দায় নিরূপণ করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া প্রয়োজন। শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার আইনগত অধিকার রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

