দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন একান্ত সচিব জ্যোতিশ্বর পাল। বিমানবন্দরে নুরুল হক নুরকে স্বাগত জানান গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ, উচ্চতর পরিষদের সদস্য শাকিলউজ্জামান ও সাকিব হোসাইন এবং দলের প্রচার সম্পাদক আশরাফুল রায়হান। এ ছাড়া দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সফর শেষে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ।
বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে বৈঠক
গণঅধিকার পরিষদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে পাঁচ দিনের সফরে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
সফরকালে দক্ষিণ কোরিয়ার চুংজু সিটির মেয়রের বিশেষ আমন্ত্রণে দেশটির একটি প্রতিষ্ঠান ‘চুনকো কোম্পানি লিমিটেড’ পরিদর্শন করেন তিনি। এ ছাড়া ইনচেওন শহরের অন্তর্গত গাংহোয়া কাউন্টির মেয়র পার্ক ইয়ং-চোওলের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলটির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোরীয় বিনিয়োগ আকর্ষণেও আলোচনা
সফরকালে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশে কোরীয় বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ উদ্দেশ্যে রাজধানী সিউলে পৃথক দুটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন তিনি। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কোরিয়ান প্রিন্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন নুরুল হক নুর।
বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোকে এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শ্রমবাজার সম্প্রসারণে পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ সফরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে বৈঠকগুলো থেকে কী ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, চুক্তি বা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
সফর-পরবর্তী আলোচনার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় কী অগ্রগতি হয়, তা জানতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

