বাংলাদেশের বিনোদন ও ফ্যাশন অঙ্গনের পরিচিত মুখ তুলনা আল হারুন আর নেই। মডেলিং, অভিনয় ও টেলিভিশন উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই শিল্পী শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৯ বছর।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) তুলনার মা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমেনা বেগম তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। একই দিন দুপুরে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
ছয় মাস আগে ধরা পড়ে টিউমার
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে তুলনা আল হারুনের স্তনে টিউমার ধরা পড়ে। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। প্রথমে ঢাকার আহ্ছানিয়া মিশন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তাঁকে পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
গত ২০ অক্টোবর তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে বায়োপসি পরীক্ষায় ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, তত দিনে তাঁর শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে।
অস্ত্রোপচারের পর হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি
তুলনার মা আমেনা বেগম জানান, অস্ত্রোপচারের পর প্রথম দুই দিন তুলনার শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন, হাসিখুশিও ছিলেন। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তুলনা। পরে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মডেলিং ও ফ্যাশন অঙ্গনে ছিল পরিচিতি
তুলনা আল হারুন মডেলিং, অভিনয় ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। পাশাপাশি ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার ও স্টাইলিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশের বিনোদন ও ফ্যাশন অঙ্গনের বিভিন্ন আয়োজনে যুক্ত ছিলেন এই শিল্পী।
ব্যক্তিজীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী, ফ্যাশন ডিজাইনার, কোরিওগ্রাফার ও ভক্তদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুনের ভাতিজি তুলনা
তুলনা আল হারুন দেশের প্রখ্যাত নাট্যকার ও নাট্যনির্দেশক আবদুল্লাহ আল মামুনের ভাতিজি। তাঁর বাবা আবদুল্লাহ আল হারুন জার্মানিতে বসবাস করেন। তুলনার পরিবারে দুই ভাই ও দুই বোন রয়েছেন।
মাত্র ৩৯ বছর বয়সে তাঁর এই চলে যাওয়া বিনোদন ও ফ্যাশন অঙ্গনের জন্য এক বেদনাদায়ক ঘটনা। তাঁর কাজ ও স্মৃতি সহকর্মী এবং অনুরাগীদের মনে থেকে যাবে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

