ফেনীর সদর উপজেলায় হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ঝোপের ভেতর থেকে মো. আবদুল্লাহ আল আমিন (৩০) নামে এক যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পথচারীরা ঝোপের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তিনি জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সোনাগাজী উপজেলা শাখার সদস্যসচিব।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের হাফেজিয়া ভাঙার তাকিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
আবদুল্লাহ আল আমিন ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের উত্তর মঙ্গলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পরিবারের সদস্য ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে সোনাগাজী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনাগাজী বাজারে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন আল আমিন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। ওই দিন রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে দুটি নম্বরই বন্ধ পান।
আল আমিনের চাচা আবদুল হক নোমান জানান, শুক্রবার মধ্যরাতে পুলিশ তাঁদের আল আমিনকে উদ্ধারের খবর দেয়। তাঁর শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না। সুস্থ হওয়ার পর তাঁর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
আবদুল হক নোমান আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আল আমিনের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় তাঁর আট বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। আল আমিনকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং তাঁকে ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আল আমিনকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) সৈয়দ মুমিদ রায়হান। তিনি জানান, ঘটনার তথ্য অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।
তবে আল আমিনকে কে বা কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং কী কারণে তাঁকে ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল, তা এখনো জানা যায়নি।

