কুমিল্লা নগরে ‘শেখ হাসিনা আইতাছে’ স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ১৭ জন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নগরের চকবাজার-সংলগ্ন নুরপুর তেলিকোনা সড়কে এ মিছিল হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে জুমার নামাজের খুতবা চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি ঝটিকা মিছিল করেন। মিছিলটি প্রায় ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট স্থায়ী হয়। পরে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পুলিশ জানায়, ভিডিও পর্যালোচনা করে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কাইয়ুমের নাম
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কাইয়ুম নামে একজন রয়েছেন। তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কুমিল্লা মহানগর শাখার কর্মী এবং মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা শাখার সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কাইয়ুমের বাড়ি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সাওয়ালপুর পূর্বপাড়ায়। তাঁর সঙ্গে মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আজিজুর রহমান, হাসিব, জামিল ইসলামসহ মোট ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে মিছিলের ভিডিও
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ঝটিকা মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে মিছিলকারীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। তাঁদের কয়েকজনের হাতে লাঠি এবং মুখে মাস্ক দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে কয়েকজন যুবককে নুরপুর তেলিকোনা সড়কে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা যায়। পরে তাঁরা একটি ব্যানার বের করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ নিয়ে পুলিশের দাবি
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান দাবি করেন, বিদেশে অবস্থানরত আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মেয়ে তাহসিন বাহারের সঙ্গে কাইয়ুমের হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।
পুলিশের ধারণা, তাহসিন বাহারের নির্দেশে কুমিল্লার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির উদ্দেশ্যে ওই ঝটিকা মিছিল করা হয়েছিল। কাইয়ুমকে আটকের পর তাঁর মুঠোফোনে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথোপকথন পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তবে মিছিলের পেছনে কারা জড়িত এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশের অভিযোগ ও প্রাথমিক ধারণার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

