সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রাসঙ্গিক কনটেন্ট, অতিরিক্ত সুপারিশ এবং অ্যালগরিদমের প্রভাব নিয়ে ব্যবহারকারীদের অসন্তোষ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের পছন্দ অনুযায়ী নিউজ ফিড সাজানোর সুযোগ বাড়াচ্ছে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিউব। নতুন এসব সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কী ধরনের কনটেন্ট দেখতে চান, তা আগের চেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
গত কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলো কালানুক্রমিকভাবে পোস্ট দেখানোর পরিবর্তে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কনটেন্ট সুপারিশ করে আসছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা নিজেদের আগ্রহের সঙ্গে মিল নেই—এমন কনটেন্টও বারবার দেখতে পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অনলাইন কনটেন্ট বাছাইয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় এ অসন্তোষ বেড়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ইনস্টাগ্রামে ‘ইউর অ্যালগরিদম’ ফিচার
ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের ফিডের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ দিতে ‘ইউর অ্যালগরিদম’ নামে একটি ফিচার এনেছে। এর সাহায্যে ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিক ভাষায় নিজেদের পছন্দ ও অপছন্দের বিষয় জানাতে পারবেন।
কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের কনটেন্ট বেশি দেখতে চাইলে সেটি জানানো যাবে। একইভাবে, যেসব বিষয়ে আগ্রহ নেই, সেগুলোর কনটেন্ট কমানোর অনুরোধও করা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীর আগ্রহ অনুযায়ী ফিড সাজানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
টিকটকে ‘ম্যানেজ টপিকস’ ও ‘স্মার্ট কিওয়ার্ড ফিল্টারিং’
টিকটকেও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। ‘ম্যানেজ টপিকস’ ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ক্যাটাগরির কনটেন্ট কতটা দেখতে চান, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
অন্যদিকে, ‘স্মার্ট কিওয়ার্ড ফিল্টারিং’ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট শব্দযুক্ত ভিডিও ফিড থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে ব্যবহারকারীরা তাঁদের আগ্রহের সঙ্গে অসংগত বা অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট কম দেখতে পারবেন।
ইউটিউবে তৈরি করা যাবে পছন্দের ফিড
ইউটিউবের ‘কাস্টম ফিড’ ফিচার ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট আগ্রহ অনুযায়ী আলাদা ট্যাব তৈরি করে ফিড সাজানোর সুযোগ দিচ্ছে। যেমন, কেউ ওয়ার্কআউট বা এএসএমআর কনটেন্টে আগ্রহী হলে সে অনুযায়ী আলাদা ফিড তৈরি করতে পারবেন।
এর ফলে বিভিন্ন ধরনের ভিডিওর মধ্যে নিজের পছন্দের বিষয় খুঁজে পাওয়া সহজ হতে পারে।
ফেসবুকসহ প্ল্যাটফর্মগুলোর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের ফিড নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে একই ধরনের সুবিধা নেই। ব্যবহারকারীদের জন্য কোন নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ফিচারের ধরন ও বাস্তব প্রয়োগের ওপর।
বিশ্ববিদ্যালয় অব নটর ডেমের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক টিম ওয়েনিংগারের মতে, ব্যবহারকারীরা মুখে যে ধরনের কনটেন্ট পছন্দ করার কথা বলেন, অনলাইনে তাঁদের প্রকৃত আচরণ সব সময় তার সঙ্গে মেলে না। আবার মানুষ নেতিবাচক কনটেন্টে তুলনামূলক বেশি প্রতিক্রিয়া দেখালে অ্যালগরিদমও সে ধরনের কনটেন্ট বেশি সুপারিশ করতে পারে।
এ কারণে শুধু ব্যবহারকারীর পছন্দ জানার ব্যবস্থা তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁদের আচরণ, আগ্রহ এবং ফিডের ওপর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।
ব্যবহারকারীদের জন্য এর অর্থ কী?
নতুন ফিচারগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও ব্যক্তিগত করার সুযোগ তৈরি করছে। ব্যবহারকারীরা তাঁদের আগ্রহের বিষয় বেশি দেখতে এবং অপ্রাসঙ্গিক কনটেন্ট কমানোর চেষ্টা করতে পারবেন।
তবে অ্যালগরিদমের সুপারিশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কতটা সম্ভব হবে, তা এখনো বড় প্রশ্ন। প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো—ব্যবহারকারীদের নতুন কনটেন্ট আবিষ্কারের সুবিধা বজায় রেখে তাঁদের পছন্দ ও ফিডের ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা।

