দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২২ দিনেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ২০২৬ সালে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৮ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫১২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাব এতে তুলে ধরা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জনের মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের এবং অন্য দুজন ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৫১২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১১ জন ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৫৫ জন।
চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৯৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বরিশালে ২৩১ জন, খুলনায় ২০৬ জন, রাজশাহীতে ১৬২ জন, ময়মনসিংহে ৬০ জন, রংপুরে ৪৪ জন এবং সিলেটে আটজন ভর্তি হয়েছেন।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্যের পাশাপাশি ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
অক্টোবরেই ১২৩ জনের মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। তবে জুন মাস থেকে পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে।
এ বছরের বিভিন্ন মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর চিত্র হলো—
- জানুয়ারি: ২ জন
- ফেব্রুয়ারি: ২ জন
- মে: ১ জন
- জুন: ১৩ জন
- জুলাই: ৩৬ জন
- আগস্ট: ৪৩ জন
- সেপ্টেম্বর: ১৪৮ জন
- অক্টোবরের প্রথম ২২ দিন: ১২৩ জন
সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৮ জনে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ বছর আক্রান্ত ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ১১১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে মোট আক্রান্তদের ৬২ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ। অন্যদিকে, মোট মৃত্যুর ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ নারী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্কতা জরুরি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা কিংবা যেসব জায়গায় পানি জমতে পারে, সেগুলোতেও নজর রাখা প্রয়োজন।
জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি নিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

