নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শোকাহত পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও পরিবারের সদস্যদের জন্য পোশাক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে আলিফ ফকিরের পরিবারের কাছে এসব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
পরিবারের আয়ের ব্যবস্থা করার আশ্বাস
সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে পরিবারটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। পরিবারের আর্থিক সংকট বিবেচনায় নিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
এদিকে স্বামীকে হারিয়ে শোকাহত আনন্দিতা সাংমা ও পরিবারের সদস্যদের আহাজারি থামছে না। তাঁদের দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আনন্দিতা সাংমা বলেন, তাঁর স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।
যেভাবে নিহত হন সাংবাদিক আলিফ ফকির
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন রূপসী বাংলা (আইপি) টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০)। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাংবাদিকের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মহব্বত আলী ফকির। তিনি দুর্গাপুর পৌরসভার তেলুঞ্জিয়া এলাকায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি সাবেক সেনাসদস্য ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করতেন।
দোষীদের শাস্তির দাবি
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া বলেন, নিহত সাংবাদিকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা যাতে কোনোভাবেই পার পেয়ে না যায়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলেও তিনি জানান। দলীয়ভাবে নিহত সাংবাদিকের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টার, শিক্ষাব্রতী এম এ জিন্নাহ, অধ্যক্ষ শহীদ খান, স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মৃত্যুর ঘটনায় দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

