ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই প্রার্থীসহ চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দুই প্রার্থী, একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরে এসব নোটিশ জারি করা হয়। আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় সংশ্লিষ্টদের আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাঁরা শোকজ নোটিশ পেয়েছেন
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নোটিশ পাওয়া চারজন হলেন—
১. বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।
২. ১১ দলীয় ঐক্যজোট ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন।
৩. ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজু আলী।
৪. আরাজী দক্ষিণ বঠিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জুলফিকার রহমান।
ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহারের অভিযোগ দেলাওয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে
নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির নোটিশে বলা হয়েছে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করতে মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট মো. পয়গাম আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে জমা দেওয়া ভিডিও পর্যালোচনা করে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫’-এর ১৫(খ) ধারা লঙ্ঘনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে কমিটি। তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
গণসংযোগে বাধার অভিযোগে শোকজ বিএনপি প্রার্থী
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের গণসংযোগে বাধা ও তাঁকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৩ অক্টোবর রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজীপাড়া এলাকায় গণসংযোগের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর সমর্থক যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে বলপ্রয়োগের অভিযোগও তোলা হয়।
শনিবার মির্জা ফয়সল আমীনের পক্ষে তাঁর প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক আদালতে লিখিত জবাব জমা দেন। সেখানে অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারণায় সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি চাকরিজীবীদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের ঠাকুরগাঁও পৌর যুব বিভাগের সভাপতি এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জুলফিকার রহমানের বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় বক্তব্য দেওয়া এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে। নোটিশে এ কর্মকাণ্ডকে আচরণবিধির ২১(ক) ও ২১(খ) ধারার সম্ভাব্য লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজু আলীর বিরুদ্ধে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। গত ১৩ অক্টোবর আদালতে লিখিত জবাব দিয়ে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং সেটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
২৯ অক্টোবর ভোট, নজরদারিতে নির্বাচনি পরিবেশ
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও লিখিত জবাব পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আসনটি ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।
ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ততই নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে আলোচনা বাড়াচ্ছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিচারিক কমিটির সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।

