ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে আটক ১৫৯ জনকে মুক্তি দিয়েছে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) শনিবার (১৭ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি ও যাত্রায় সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি।
আইসিআরসির তথ্য অনুযায়ী, সানার কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে একতরফাভাবে এই মুক্তি দেওয়া হয়। বন্দিদের মুক্তির আগে তাঁদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন আইসিআরসির প্রতিনিধিরা। তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও মুক্তির বিষয়ে জানানো হয়।
সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি
হুথিদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত যোদ্ধা। গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত এলাকাগুলোতে সংঘাতের সময় তাঁরা বিনা লড়াইয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুথি কর্মকর্তা আবদেলকাদির আল-মুরতাদা জানিয়েছেন, সাধারণ ক্ষমার আওতায় বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমার অধীনে মোট ৩২৩ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংখ্যা নির্ধারণে আইসিআরসি কোনো ভূমিকা নেয়নি বলে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে।
মুক্তিপ্রাপ্তদের বাড়ি ফেরাতে সহায়তা
আইসিআরসির প্রতিনিধিরা মুক্তির আগে বন্দিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং সড়কপথে ভ্রমণের উপযুক্ততা যাচাই করেন। যাঁদের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন, তাঁদের জন্য পৃথক ভ্রমণব্যবস্থাও করা হয়।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই মুক্তি ২০১৮ সালের স্টকহোম চুক্তির আওতায় হয়নি। ইয়েমেন সংঘাতে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, স্থানান্তর ও নিজ দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে আইসিআরসি প্রস্তুত রয়েছে।
ইয়েমেনের সংঘাত ঘিরে নতুন পরিস্থিতি
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা ও দেশটির বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হয়। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে।
দীর্ঘদিনের সংঘাতের মধ্যে বন্দি বিনিময় ও মুক্তির উদ্যোগগুলো মানবিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সর্বশেষ মুক্তির বিষয়ে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি), আনাদোলু এজেন্সি।

