কক্সবাজারের উখিয়ার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। মরদেহ বুঝে নিতে হাসপাতালের সামনে অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা।
১৮ অক্টোবর সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও কোন মরদেহ কার, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাকি চারজনের পরিচয়ও তখন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নিহত ছয়জনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা গেছে
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেলের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পরিচয় জানা ছয়জন হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ।
তবে মরদেহের সঙ্গে পরিচয় মিলিয়ে দেখতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এ কারণে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
আগুনে দগ্ধ ছয়জন, চারজন ঢাকায়
গত শনিবার সকালে কাঠের তৈরি তিনতলা টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এতে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয় এবং আরও ছয়জন দগ্ধ হন। আহত ব্যক্তিদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উড়োজাহাজে ঢাকায় পাঠানো হয়। অন্য দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নিখোঁজ নাসরিনের খোঁজে স্বজনদের অপেক্ষা
অগ্নিকাণ্ডের পর ঢাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তারের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। গত বৃহস্পতিবার দুই বান্ধবী আইরীন জাহান ও ইসরাত জাহানের সঙ্গে তিনি রিসোর্টটিতে ওঠেন।
আইরীন জাহানের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে তাঁরা সূর্যোদয় দেখতে সমুদ্রসৈকতে যান। নাসরিনকে সঙ্গে যাওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি ঘুমানোর জন্য রিসোর্টে থেকে যান। পরে ফিরে এসে তাঁরা রিসোর্টে আগুন জ্বলতে দেখেন।
খবর পেয়ে নাসরিনের স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যান। রিসোর্ট ও হাসপাতালে খোঁজ করেও স্ত্রীর সন্ধান পাননি তিনি। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অন্যরাও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করছেন।
রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন জানান, রিসোর্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। সেখানে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও ছিল না।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্রের তীব্র বাতাসে কাঠের স্থাপনাটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের স্থাপনায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, হোস পাইপ ও যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, রিসোর্টটি অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আগে একাধিক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরও সম্প্রতি সেখানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে।
তদন্ত কমিটি গঠন, মামলা
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান ও দায় নির্ধারণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এ ঘটনায় উখিয়া থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ রিসোর্টের ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে। রিসোর্টের মালিকেরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তদন্তের আওতায় রয়েছে।

