উড়ন্ত গাড়ির ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নতুন প্রজন্মের টেসলা রোডস্টারের বিশেষ প্রদর্শনীতে গাড়িটিকে থ্রাস্টার প্রযুক্তির সাহায্যে শূন্যে লাফ দিতে, মাঝআকাশে ঘুরতে এবং আবার মাটিতে অবতরণ করতে দেখা গেছে।
গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে গাড়িটি দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে উড়তে পারে—এমন সক্ষমতা প্রদর্শনীতে প্রমাণিত হয়নি।
আট বছর আগের ভাবনা, এবার প্রযুক্তির প্রদর্শনী
২০১৮ সালে জনপ্রিয় পডকাস্ট উপস্থাপক জো রোগানের সঙ্গে আলাপচারিতায় ইলন মাস্ক পরবর্তী প্রজন্মের রোডস্টারে স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তি কিংবা কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। তখন ধারণাটি অনেকের কাছে অবাস্তব মনে হয়েছিল।
এবারের প্রদর্শনীতে সেই পরিকল্পনার একটি প্রযুক্তিগত রূপ দেখিয়েছে টেসলা। গাড়িটির সঙ্গে উচ্চচাপের গ্যাস ব্যবহারকারী থ্রাস্টার যুক্ত করা হয়েছে, যা গাড়িটিকে বিশেষ কায়দায় ওপরে উঠতে ও শূন্যে ঘূর্ণন সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।
প্রদর্শনীতে গাড়িটিকে র্যাম্প বেয়ে উঠে বাতাসে ঘুরে আবার অবতরণ করতে দেখা যায়। তবে এটি প্রচলিত অর্থে উড়োজাহাজের মতো দীর্ঘ সময় আকাশে ওড়া নয়।
কীভাবে কাজ করবে উড়ন্ত রোডস্টার?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন রোডস্টারে উচ্চচাপের বাতাস নির্দিষ্ট দিকে বের করে ধাক্কা তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে। এ প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়িটি স্বল্প সময়ের জন্য মাটি ছেড়ে ওপরে উঠতে পারে এবং প্রদর্শনীতে দেখানো বিশেষ কসরত সম্পন্ন করতে পারে।
তবে সাধারণ সড়কে চলাচলের পাশাপাশি এমন প্রযুক্তি ব্যবহার কতটা নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত হবে, তা এখনো বড় প্রশ্ন। গাড়িটির ওজন, যাত্রীদের নিরাপত্তা, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন—সবকিছুই বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে প্রদর্শনীতে গাড়িটির শূন্যে ওঠার দৃশ্যকে পূর্ণাঙ্গ উড়ন্ত গাড়ির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
২০২৮ সালে উৎপাদনের লক্ষ্য
ইলন মাস্কের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন রোডস্টারের উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে উৎপাদনের সময়সীমা এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজারে আসা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রদর্শনীতে ব্যবহৃত বিশেষ থ্রাস্টার প্রযুক্তি চূড়ান্ত ক্রেতা সংস্করণে ঠিক কীভাবে থাকবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
টেসলার এই প্রদর্শনী ভবিষ্যতের গাড়ি প্রযুক্তি নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। কিন্তু বাস্তবে গাড়িটি কতটা উড়তে পারবে, কতটা নিরাপদ হবে এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী হবে কি না—তা নির্ভর করবে পরবর্তী পরীক্ষা ও উৎপাদন পর্যায়ের অগ্রগতির ওপর।

