আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের রাজধানী দিল্লির কনট প্লেসে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ‘তিরঙ্গা মার্চ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে রাজনৈতিক দল, তরুণ, কৃষক ইউনিয়ন ও ছাত্র সংগঠনগুলোকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে পদযাত্রা ঠেকাতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপির সমর্থকদের জাতীয় পতাকাসহ কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ কর্মসূচির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা দিল্লি হাইকোর্টকে জানিয়েছে পুলিশ।
কেন এই পদযাত্রার ডাক?
সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে এ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে সমাবেশের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের তিহার কারাগারে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিজিত দীপকে অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পুরো দিল্লিকে অচল করে দিয়েছেন। তিনি দিল্লির পরিস্থিতিকে ‘ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের’ সঙ্গে তুলনা করেন।
সিজেপির পাশে বিরোধী নেতারা
সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে তিনি সিজেপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিরোধী দলের আরও কয়েকজন নেতাও সংগঠনটির পাশে দাঁড়িয়েছেন।
বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগ নেহা বোরার
সংবাদ সম্মেলনে নেহা বোরা গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এক নারী সাংবাদিক যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
নেহা বলেন, সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় পুলিশের কাছে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের ওপর উল্টো চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে সিজেপিসহ কয়েকটি সংগঠন। ভারতের লোকসভার বিরোধী দল কংগ্রেসও একই দাবি জানিয়েছে।
এর আগে গত শনিবার দিল্লিতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা সমাবেশ করতে গেলে পুলিশ ধরপাকড় চালায়। ওই দিন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবারের তিরঙ্গা মার্চ ঘিরে দিল্লিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কর্মসূচিটি শেষ পর্যন্ত কীভাবে পরিচালিত হবে, তা পুলিশের পদক্ষেপ ও আয়োজকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস ও দৈনিক সমকাল।

