নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আগামীকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এদিন দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। এবার মহাসপ্তমীর তিথি দুই দিন হওয়ায় উৎসবের আয়োজন চলবে ছয় দিন ধরে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫। অর্থাৎ, এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৬টি। তবে ঢাকা মহানগরীতে গত বছরের তুলনায় মণ্ডপের সংখ্যা তিনটি কমে দাঁড়িয়েছে ২৫৮টিতে। রাস্তার ওপর পূজা আয়োজনের অনুমতি না পাওয়ায় এ সংখ্যা কমেছে বলে জানা গেছে।
ছয় দিনের পূজার সূচি
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, দুর্গাপূজার প্রধান আনুষ্ঠানিকতা মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পালিত হয়। এবারের সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পূজা শুরু হবে। শনিবার ও রোববার পালিত হবে মহাসপ্তমীর আনুষ্ঠানিকতা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত বিশ্বাসে ঘোড়ায় আগমনের ফল হিসেবে ফসল ও শস্যহানির এবং নৌকায় গমনের ফল হিসেবে শস্যবৃদ্ধির কথা বলা হয়।
পূজার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, পুলিশ, ড্রোন ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কড়া পাহারায় পূজার আয়োজন হওয়া দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক। তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি সংখ্যালঘু পূজার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশকে সংকুচিত করতে পারে।
পূজামণ্ডপে নিরাপত্তায় পুলিশের নির্দেশনা
শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে আয়োজক এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবকদের দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ও নির্ধারিত পোশাক নিশ্চিত করা এবং প্রতিমা বিসর্জনে নির্ধারিত পথ অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো তথ্য যাচাই না করে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে এবং আজান ও নামাজের সময় মসজিদসংলগ্ন মণ্ডপে শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতেও বলা হয়েছে। আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা পেতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে বিনামূল্যে ফোন করা যাবে।
নিরাপত্তা ও উৎসবের আনন্দের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ।

