আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে ব্যাট ও উইকেটকিপিং—দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। দুই ইনিংসে অর্ধশতক ও সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল নিয়ে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন তিনি। ক্রিকেটের দীর্ঘ ১৪৯ বছরের ইতিহাসে এক টেস্টে এমন সমন্বিত অর্জনের নজির নেই বলে জানিয়েছে যুগান্তর।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) টেস্টের পঞ্চম দিনে লিটনের এই পারফরম্যান্স আলোচনায় আসে। প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক করে চার ইনিংসের রানখরা কাটানোর পর দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ বড় লিড গড়ার সুযোগ পায়।
২২ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন লিটন
উইকেটকিপিংয়েও লিটন ছিলেন দুর্দান্ত। আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে আগের দিনই তিনটি ক্যাচ নিয়েছিলেন তিনি। এর আগে প্রথম ইনিংসে চারটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিং করেছিলেন।
এতে এক টেস্টে বাংলাদেশের উইকেটকিপার হিসেবে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেন লিটন। ২০০৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাতটি ডিসমিসাল নিয়ে এত দিন রেকর্ডটির মালিক ছিলেন খালেদ মাসুদ পাইলট।
পরের দিন ইকরাম আলীখিলের ক্যাচ নেন লিটন। এতে তাঁর মোট ডিসমিসালের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯-এ।
বিশ্বরেকর্ডের হাতছানি
এক টেস্টে উইকেটকিপারের সর্বোচ্চ ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড ১১টি। ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ভারতের ঋষভ পন্ত এই রেকর্ডের যৌথ মালিক।
জ্যাক রাসেল ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, ডি ভিলিয়ার্স ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং ঋষভ পন্ত ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১টি ডিসমিসাল করেছিলেন।
লিটনের সামনে এখন সেই রেকর্ড স্পর্শ করা কিংবা ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্টে ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন লিটন। প্রথম ইনিংসে অর্ধশতকের পর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন তিনি। একই সঙ্গে পঞ্চম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
এ ছাড়া সেঞ্চুরির সংখ্যায় বাংলাদেশের সাবেক ব্যাটার মোহাম্মদ আশরাফুলকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।
ব্যাটিং ও উইকেটকিপিংয়ে এমন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর টেস্টের শেষ দিনে বিশ্বরেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন লিটন দাস।

