ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত ১২ সাংবাদিককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) টানা দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ চলাকালে তাঁদের আটক করা হয়। আটক সাংবাদিকদের মধ্যে হিন্দুস্তান টাইমসের সহযোগী সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান’, ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ ও ‘দ্য হিন্দু’র কর্মীরাও রয়েছেন।
সংবাদ সংগ্রহের সময় আটক ও মারধরের অভিযোগ
হিন্দুস্তানের ২৭ বছর বয়সী প্রতিবেদক আশিস সিংয়ের অভিযোগ, রোববার বেলা আড়াইটার দিকে আরকে আশ্রম মার্গ এলাকায় বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করার সময় পুলিশ তাঁকে আটক করে। এ সময় তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং তিনি আহত হন বলে দাবি করেন আশিস।
আশিস জানান, গলায় সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁর পরিচয় বিবেচনায় নেয়নি। তিনি বিক্ষোভকারীদের আটকের দৃশ্য ধারণ করছিলেন এবং বারবার নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও তাঁকে একটি বাসে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন।
পরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাসে থাকার পর তিনি ও আরেক সাংবাদিক নেমে যান। পুলিশের হাতে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলার আশঙ্কা থেকে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন বলেও জানান।
ছবি তুলতে গিয়ে আটক আলোকচিত্রী
বিক্ষোভকারীদের আটকের ছবি তোলার সময় একটি জাতীয় সংবাদ সংস্থার এক আলোকচিত্রীকেও আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে ধাক্কা দিয়ে বাসে তোলে। ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি মেমোরি কার্ড লুকিয়ে রাখেন।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস হিন্দি’র তিন সাংবাদিক শাশ্বত, সিয়া ও বিজয়ও ছিলেন। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের কনট প্লেস এলাকা থেকে আটক করে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ‘দ্য হিন্দু’র এক নারী প্রতিবেদককেও সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতিবাদ জানানোর পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের আটকের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে সাংবাদিকদের আটকের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

