ভারতের রাজনীতি ও গণতন্ত্র নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে সংহতি জানাচ্ছেন চলচ্চিত্র ও বিনোদনজগতের একাধিক পরিচিত মুখ। ভোটাধিকার, শিক্ষার্থীদের দাবি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রতিবাদের মঞ্চে দেখা গেছে শাবানা আজমি, নাসিরউদ্দিন শাহ, প্রকাশ রাজ ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বদের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনটি এখন শুধু শিক্ষার্থীদের দাবি কিংবা শিক্ষা খাতের অনিয়মের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর), ভোটাধিকার এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি বিনোদনজগতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
শাবানা আজমি ও নাসিরউদ্দিন শাহের সংহতি
গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপি আয়োজিত একটি সমাবেশে অংশ নেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি। একই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা নাসিরউদ্দিন শাহ। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে নাসিরউদ্দিন শাহের আলিঙ্গনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পাশাপাশি শাবানা আজমি ও নাসিরউদ্দিন শাহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করে আসছেন। তাঁদের উপস্থিতিকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংহতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মুম্বাইয়ের ওই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ, সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানি ও অভিনেতা অতুল কুলকার্নি।
প্রকাশ রাজ ও ধ্রুব রাঠির প্রতিবাদ
সিজেপির আন্দোলনের আলোচিত কর্মসূচিগুলোর একটি অনুষ্ঠিত হয় ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে। সেখানে অভিনেতা প্রকাশ রাজ ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেন।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কর্মসূচির অন্যতম দাবি ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।
প্রকাশ রাজের বক্তব্য, এসআইআর কেবল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে নাগরিকের মর্যাদা ও ভোটাধিকার জড়িত। তাঁর মতে, শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ নয়, পুরো এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, ধ্রুব রাঠি নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্য সরকার পরিবর্তন নয়। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া কিংবা এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগগুলো আন্দোলনকারীদের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারকাদের সরব উপস্থিতি
সব তারকাকে সরাসরি রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা যায়নি। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ভিডিও শেয়ার করে কিংবা তাতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
দিয়া মির্জা ও কঙ্কনা সেনশর্মা শাবানা আজমির শেয়ার করা প্রতিবাদের ভিডিও পুনরায় পোস্ট করেন। এ ছাড়া রিচা চাড্ডা, টুইঙ্কল খান্না, জোয়া আখতার, শিবানী আখতার, তারা শর্মা সালুজা ও সাবা পাতৌদি ওই ভিডিওর মন্তব্য বিভাগে প্রতিক্রিয়া জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের এমন অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলনসংক্রান্ত বক্তব্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটাধিকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্ক বিনোদনজগতের আলোচনাতেও জায়গা করে নিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি থেকে ভোটাধিকার—কী নিয়ে আন্দোলন?
সিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষা খাতের অনিয়মের অভিযোগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে প্রতিবাদ উঠে এসেছে। আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটাধিকার সুরক্ষার প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
তবে আন্দোলনে তারকাদের অংশগ্রহণ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সমর্থন কোনো অভিযোগের সত্যতা নিজে থেকে প্রমাণ করে না। বিষয়গুলো সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে আন্দোলনকারীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, সিজেপির আন্দোলনে পরিচিত চলচ্চিত্র তারকা ও কনটেন্ট নির্মাতাদের অংশগ্রহণ এটিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। দিল্লি ও ভারতের অন্যান্য এলাকায় চলমান কর্মসূচির গতিপ্রকৃতি এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া এখন নজরে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

