ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া, এমপি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য মোরশেদ মিলটন, অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, মো. ফজলে হুদা, কামরুজ্জামান কামরুল, আলফারুক আব্দুল লতীফ, শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ) ও মো. আতাউর রহমান অংশ নেন। সভাপতির বিশেষ আমন্ত্রণে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর কমিটির সদস্যদের পরিচিতি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা
বৈঠকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এ সময় সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় মন্ত্রণালয়ের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
কমিটির সভাপতি তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।
ক্রীড়া ও যুব উন্নয়নে একাধিক সুপারিশ
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২)’-এর প্রচার বাড়াতে টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও অনলাইন গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
এ ছাড়া যুবসমাজকে মাদকের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে বেকার যুবক-যুবতীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবছর নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের সুপারিশ করা হয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পে জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি। নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ঠেকাতে যথাযথ নজরদারি ও মাননিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়।
এ ছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া এবং পর্যায়ক্রমে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।
নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তায় ‘জিরো টলারেন্স’
বৈঠকে নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা ও যেকোনো ধরনের হয়রানি প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি।
বৈঠকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

