সাবরেজিস্ট্রার বদলিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও পোস্টিং-বাণিজ্যের অভিযোগ কমিয়ে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এর অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে ঢাকা জেলার ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৮টি সাবরেজিস্ট্রার পদের জন্য ১৮ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে লটারির মাধ্যমে এই নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত কর্মকর্তাদের যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোর কাজের চাপ বিবেচনা করে বিভিন্ন স্থানে পদায়ন করা হবে।
বদলিতে কেন লটারি?
সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি ও পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং বদলিকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
আইন মন্ত্রণালয় বলছে, এই নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা প্রভাবের পরিবর্তে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা সম্ভব হবে।
যোগ্যতা ও কাজের চাপ বিবেচনায় পদায়ন
লটারিতে ১৮ জন কর্মকর্তা নির্বাচিত হলেও তাঁদের কোন সাবরেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন করা হবে, তা শুধু লটারির ফলের ওপর নির্ভর করছে না।
আইন মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপ বিবেচনা করে তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় পদায়ন করা হবে। ফলে বদলি প্রক্রিয়ায় লটারি থাকলেও চূড়ান্ত পদায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রয়োজনও গুরুত্ব পাচ্ছে।
দুর্নীতি ঠেকাতে নজরদারি
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সাবরেজিস্ট্রারদের বদলির পাশাপাশি তাঁদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারিও থাকবে। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
সরকারি অফিসে দুর্নীতি কমানো এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই লটারির মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রার বদলিকে দেখা হচ্ছে।
সারা দেশে ১৩৯ পদ খালি
আইনমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ৩৭২টি সাবরেজিস্ট্রার পদের মধ্যে বর্তমানে ১৩৯টি পদ খালি রয়েছে।
ঢাকার ১৮টি ‘এ’ ক্যাটাগরির পদে লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের নির্বাচনকে একটি পরীক্ষামূলক ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হয় এবং বদলি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ কমাতে কতটা ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সাধারণ মানুষের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমি ও সম্পত্তি নিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা দেওয়া হয়। এসব অফিসে অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা হয়রানি হলে সরাসরি ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
তাই কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়লে প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়তে পারে এবং সম্পত্তি নিবন্ধন-সংক্রান্ত সেবায় হয়রানি কমার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আইন মন্ত্রণালয়ের এই লটারিভিত্তিক উদ্যোগ বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, তা নির্ভর করবে শুধু বদলির পদ্ধতির ওপর নয়; বরং পরবর্তী সময়ে কর্মকর্তাদের কাজের ওপর কার্যকর নজরদারি ও অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও।

