আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে গঠিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বা মক্কা জোটে বাংলাদেশ, ইরানসহ আরও মুসলিম দেশকে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান।
রোববার (৪ অক্টোবর) করাচিতে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত গাজা সংহতি মিছিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে ফিলিস্তিন ইস্যুকে মক্কা জোটের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আরও সম্প্রসারিত করে বাংলাদেশ, ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশকে এর আওতায় আনা যেতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের সহযোগিতার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কী
২০২৬ সালের ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির এবং অন্য দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।
চুক্তিটি ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও উন্মুক্ত রাখার কথা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশকে নিয়ে আগেও আলোচনা
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে এর আগেও আলোচনা হয়েছে। আগস্টে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ঢাকা এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেন, আমন্ত্রণ পেলে বাংলাদেশ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
তবে বাংলাদেশকে এখন পর্যন্ত মক্কা জোটের সদস্য করা হয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্যটি মূলত জোট সম্প্রসারণের একটি রাজনৈতিক আহ্বান।
ফিলিস্তিনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি
করাচির সমাবেশে হাফিজ নাঈমুর রহমান ফিলিস্তিনের পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন। তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আরও ঐক্য এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: The Express Tribune, Dawn

