নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তাঁর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত আসে।
স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিষ্টি। তিনি বলেন, স্পিকার তাঁকে ডেকেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির সিদ্ধান্ত যা হবে, তা হবে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত ও অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের নামও এসেছে। তবে এসব তথ্যের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের বিষয়।
রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামও আলোচনায় আসে। প্রকাশিত নথির বরাতে জানা গেছে, মিষ্টি ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন এবং সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে করা একটি আবেদনে তাঁর স্বাক্ষর ছিল।
তবে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ মিষ্টি অস্বীকার করেছেন বলে আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মিষ্টি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করায় তাঁর সংরক্ষিত নারী আসনটি ১ অক্টোবর থেকেই শূন্য হয়েছে। এ আসনে পরবর্তী সাংবিধানিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মিষ্টি বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ এবং ৩ মে তাঁদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসেবে প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ শেষ হলো।

