আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলামের আচরণ নিয়ে অভিযোগ তুলেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রশ্নের বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি কাঠগড়া থেকে উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাঁর দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল। ওই মামলায় জুলাইযোদ্ধা মো. হান্নান মিয়া রাষ্ট্রপক্ষের চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।
একটি প্রশ্ন নিয়ে আপত্তি
প্রসিকিউশনের দাবি, সাক্ষ্যের একপর্যায়ে ১৪ দলের নেতাদের কারফিউ আরোপের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ আসে। এরপর প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সংশ্লিষ্ট নেতারা কারা ছিলেন, তা জানতে প্রশ্ন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঠগড়ায় থাকা কামরুল ইসলাম ওই প্রশ্নকে ‘অবৈধ’ বলে আপত্তি জানান এবং উচ্চস্বরে কথা বলতে শুরু করেন। পরে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে এলে আদালত প্রশ্নটি আইনগতভাবে করা যেতে পারে বলে মত দেন।
অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পরিস্থিতিতে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ ট্রাইব্যুনালের কাছে ‘প্রোটেকশন’ চান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে অভিযোগ
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কামরুল ইসলামের দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তাঁরা পেয়েছেন।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, এর আগেও ট্রাইব্যুনালে আসা-যাওয়ার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কামরুল ইসলামের আচরণ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কামরুল ইসলামের পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
মামলার প্রেক্ষাপট
কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল এবং মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বর্তমান ঘটনায় প্রসিকিউশন যে অভিযোগগুলো তুলেছে, সেগুলো রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য। আদালতের চূড়ান্ত রায় বা সিদ্ধান্তের সঙ্গে এগুলোকে এক করে দেখা উচিত নয়। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ বিবেচনার পর আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।

