রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে শনিবার ২৮৯ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে তাঁদের বেশির ভাগকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে জাসদের দাবি, দলের ২৬ নেতা-কর্মী এখনো আটক রয়েছেন। তাঁদেরও দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।
শনিবার বেলা তিনটার দিকে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে থাকা দলীয় নেতা-কর্মী ও সাংবাদিক নেতাসহ অনেককে আটক করে বিভিন্ন থানায় নেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে ডিএমপির মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার সাকিবুল আলম ভূঁইয়া প্রথম আলোকে জানান, মোট ২৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে জাসদের নেতা-কর্মীদের ছেড়ে দেওয়া হবে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানান।
পুলিশের ভাষ্য, জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার কথাও পুলিশ জানায়।
তবে জাসদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির দাবি, কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা চলছিল এবং সভার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার, মতিঝিল জোনের ডিসি ও পল্টন থানার ওসিকে জানানো হয়েছিল। জাসদ আরও বলেছে, দলটি নিষিদ্ধ নয় এবং সভায় অংশ নেওয়া সবাই দলের নেতা বা সদস্য ছিলেন।
জাসদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি সভায় প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। দলটি অভিযোগ করেছে, যুবদলের নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ে ঢুকে হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং পরে পুলিশ কার্যালয় ঘেরাও করে নেতা-কর্মীদের আটক করে। এসব অভিযোগ জাসদের বক্তব্য; পুলিশ এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে।
এ ঘটনায় জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন জানান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যও আটক হয়েছিলেন। পরে জাসদ সূত্র জানায়, তাঁকে রোববার ভোরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের তখনও আদালতে হাজির করা হয়নি।
সর্বশেষ জাসদের দাবি, ২৬ নেতা-কর্মী এখনো আটক রয়েছেন। তাঁদের সবাই জাসদের নেতা-কর্মী বলে দাবি করে দলটি তাঁদের মুক্তি চেয়েছে।

