ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে রাজ্যে শাখার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গের প্রান্ত প্রচারপ্রমুখ বিপ্লব রায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের আগে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫ হাজার শাখা ছিল। সংগঠনটির লক্ষ্য, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে এই সংখ্যা ১০ হাজারে নেওয়া। এ লক্ষ্যে ১ থেকে ১০ অক্টোবর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার ও সদস্যসংযুক্তির কর্মসূচি নেওয়া হবে।
সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের পরিকল্পনা
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে তিনটি প্রান্তের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আরএসএস। নতুন পরিকল্পনায় রাজ্যকে আরও কয়েকটি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
এদিকে কলকাতার নিউ টাউনে আরএসএসের নতুন পাঁচতলা কার্যালয় ‘কেশব স্মৃতি’ চালু করা হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। নতুন ভবনে সভাকক্ষ, বৈঠকের স্থান এবং বাইরে থেকে আসা পদাধিকারীদের থাকার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।
নতুন কার্যালয়টি সংগঠনের বাড়তে থাকা কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত জায়গা দেবে বলে আরএসএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আগের কেশব ভবন কলকাতায় সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
মোহন ভাগবতের পশ্চিমবঙ্গ সফর
আরএসএসের সাংগঠনিক পরিকল্পনার মধ্যেই সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবতের পশ্চিমবঙ্গ সফরের কথা রয়েছে। ৮ অক্টোবর বর্ধমানে একটি কর্মসূচিতে তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সফরে রাজ্যে সংগঠনের বিস্তার ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সংগঠন-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তরুণ ও সংখ্যালঘুদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ
সংগঠনের বিস্তারের পাশাপাশি তরুণদের যুক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। ১ থেকে ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিগুলোতেও নতুন সদস্য ও স্বয়ংসেবকদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতেও কর্মসূচি নেওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক কার্যক্রমে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের সাংগঠনিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর লক্ষ্য স্পষ্ট হচ্ছে। সংগঠনটির প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে শাখা সম্প্রসারণ, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো এবং জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

