ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে সন্দেহভাজন সশস্ত্র হামলায় চারজন নাগা বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কামজং জেলার মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন পিলং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে বাবা ও ছেলেও রয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র কয়েকজন ব্যক্তি পিলং গ্রামে প্রবেশ করে স্থানীয়দের ওপর গুলি চালায়। এতে ফামি জাজো, নিংথেম কাশাক, বেটারসন জাজো ও ভারেইশিম জাজো নিহত হন। ভারেইশিম জাজো ও ফামি জাজো বাবা-ছেলে। ঘটনাস্থলটি কামজং জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৪-৩৫ কিলোমিটার দূরে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের পরিচয় ও ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে মিয়ানমারভিত্তিক কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বর্মা (KNA-B) গোষ্ঠীর সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ করা হচ্ছে। বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
এ ঘটনার পর স্থানীয় নাগা সংগঠন টাংখুল নাগা লং (TNL) ২৪ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দেয়। সংগঠনটি হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে।
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং চার নাগা বেসামরিক নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সমাজে এ ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
তিন গ্রামে ঘরবাড়ি ও গির্জায় আগুন
এদিকে মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় পৃথক সহিংসতায় তিনটি গ্রামে প্রায় ৪০টি বাড়ি ও একটি গির্জায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর মাকুই চামরিউপিউ, মাকুই থানাম্বা ও মাকুই থেব্রাম এলাকায় এসব হামলা হয়। হামলার মধ্যে কয়েকটি সরকারি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ক্রমাগত হামলার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মণিপুরে চলমান জাতিগত উত্তেজনার মধ্যে নতুন এসব হামলা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে।

