জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের চলমান লংমার্চ কর্মসূচি আরও দুই বিভাগে নেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে। রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের স্থানীয় নেতারা এ প্রস্তাব দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জোটের লিয়াজোঁ কমিটি ও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা হলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করে ১১–দলীয় ঐক্য। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট বিভাগে লংমার্চ হওয়ার কথা রয়েছে। খুলনা কর্মসূচির সমাপনী কুষ্টিয়ায় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ সড়কপথের পরিবর্তে ট্রেনে আয়োজনের সিদ্ধান্তও নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিলেটের সড়ক পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রেনপথে কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে একই সময়ে সাধারণ যাত্রীদের ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকায় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
১১–দলীয় ঐক্যের মুখপাত্র রাশেদ প্রধান জানিয়েছেন, রাজশাহী ও বরিশালে লংমার্চের প্রস্তাব নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।
জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, দুই নতুন বিভাগের কর্মসূচির বিষয়ে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সিলেটের কর্মসূচির ক্ষেত্রেও একই বৈঠকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
চট্টগ্রাম ও রংপুরের কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক দাবি তুলে ধরেছিল ১১–দলীয় ঐক্য। এর মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের সংকট মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি ছিল। রংপুরের কর্মসূচিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও যুক্ত করা হয়।
জোটের নেতারা জানিয়েছেন, পরবর্তী বিভাগীয় কর্মসূচিতেও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে দাবির সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে। বিভাগভিত্তিক লংমার্চ শেষ হওয়ার পর ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে; সেই কর্মসূচির সময়সূচি পরিবর্তিত হয়ে ডিসেম্বরেও যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

