ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে শুধু ধূমপানই জড়িত নয়। প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস ও পরিবেশের কারণেও দীর্ঘ সময় ধরে ফুসফুস ক্ষতিকর ধোঁয়া, ধুলা ও রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসতে পারে। বিশেষ করে পরোক্ষ ধূমপান, রান্নার ধোঁয়া, ধুলাবালিতে সুরক্ষা ছাড়া চলাফেরা, দীর্ঘদিনের কাশি অবহেলা এবং ঘরে নিয়মিত মশার কয়েল বা ধূপ জ্বালানো ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তাই এসব অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
১. পরোক্ষ ধূমপান
নিজে ধূমপান না করলেও অন্যের সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। তামাকের ধোঁয়ায় থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক শ্বাসনালি ও ফুসফুসে পৌঁছে কোষের ক্ষতি করতে পারে।
দীর্ঘ সময় ধরে অন্যের ধূমপানের ধোঁয়ার মধ্যে থাকলে ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই বাড়ি, কর্মস্থল বা অন্য কোনো বন্ধ জায়গায় তামাকের ধোঁয়া থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা প্রয়োজন।
২. রান্নার ধোঁয়া
বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় রান্নার ধোঁয়ার মধ্যে থাকাও ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। গ্যাস বা অন্য জ্বালানি ব্যবহারের সময় বিভিন্ন ধরনের ধোঁয়া ও গ্যাস তৈরি হয়।
রান্নার সময় তেল বা মসলা পোড়ার ধোঁয়াও ঘরের বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। দীর্ঘ সময় এ ধরনের ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি।
৩. ধুলাবালিতে সুরক্ষা ছাড়া চলাফেরা
নির্মাণকাজ, শিল্পকারখানা কিংবা অতিরিক্ত ধুলাবালিযুক্ত এলাকায় নিয়মিত চলাফেরা করলে বিভিন্ন ধরনের কণা ও রাসায়নিক পদার্থ শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে।
বিশেষ করে যারা নিয়মিত ধুলোময় বা ধোঁয়াযুক্ত পরিবেশে কাজ করেন, তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নেওয়া উচিত। নির্মাণাধীন এলাকা বা অতিরিক্ত ধুলাবালির জায়গায় চলাচলের সময় মাস্ক ব্যবহার করাও সহায়ক হতে পারে।
৪. দীর্ঘদিনের কাশি অবহেলা করা
অনেকেই দীর্ঘদিন কাশি বা শ্বাসকষ্ট থাকার পরও সেটিকে সাধারণ ঠান্ডা-কাশি ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা শ্বাসকষ্টের পেছনে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত কারণ থাকতে পারে।
তাই দীর্ঘদিন কাশি থাকলে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে নতুন বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ দেখা দিলে এর কারণ জানা গুরুত্বপূর্ণ।
৫. ঘরে নিয়মিত মশার কয়েল বা ধূপ জ্বালানো
বন্ধ ঘরে দীর্ঘ সময় মশার কয়েল বা ধূপ জ্বালালে ধোঁয়া ঘরের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে সুগন্ধি মোমবাতিসহ বিভিন্ন ধোঁয়া উৎপন্নকারী উপকরণ ব্যবহারের ফলেও ঘরের বাতাসে ক্ষুদ্র কণা ও রাসায়নিক জমতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি বন্ধ ঘরে মশার কয়েল পোড়ানোর ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধোঁয়া ও ক্ষতিকর কণা তৈরি হতে পারে। এ কারণে দীর্ঘ সময় এমন ধোঁয়ার মধ্যে না থাকা এবং ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফুসফুস ভালো রাখতে কী করবেন
ফুসফুসের সুস্থতা বজায় রাখতে তামাকের ধোঁয়া এড়িয়ে চলা, রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা এবং ধুলাবালির পরিবেশে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি দীর্ঘদিন কাশি, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত সচেতনতা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতার মাধ্যমে ফুসফুসের ওপর ক্ষতিকর পরিবেশগত প্রভাব কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে।

