ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, নেতানিয়াহুকে বহনকারী সরকারি উড়োজাহাজ ‘উইং অব জায়ন’ নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে না নেমে নিউ জার্সির Newark Liberty International Airport অথবা কাছাকাছি কোনো সামরিক বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, JFK-তে বিমানটি নেতানিয়াহুর সফরকালজুড়ে পার্ক করে রাখার ব্যবস্থা নিয়ে সমন্বয়গত জটিলতা এবং নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির অবস্থান নিয়ে ইসরাইলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্বেগ রয়েছে। বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহারের ফলে বিমানটি নিউইয়র্ক এলাকায় নেতানিয়াহুর অবস্থানকালজুড়ে রাখা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আদালত তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এসব অভিযোগ ইসরাইল প্রত্যাখ্যান করেছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ওই পরোয়ানা কার্যকরের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটি সরকারের নিজস্বভাবে এই গ্রেফতার কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি ICC-এর পরোয়ানা কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে নেতানিয়াহুর এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরও ব্যাপকভাবে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার পর একই রাতেই ইসরাইলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। নিউইয়র্কে তার সফর ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের বিক্ষোভের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যম।
এর আগে টেক্সাসে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে নেতানিয়াহুর নির্ধারিত বৈঠকও বাতিল করা হয়। ওই বৈঠকের জন্য ইসরাইলি কর্মকর্তাদের একটি প্রস্তুতি দল টেক্সাসে পৌঁছালেও পরে সফরের সেই অংশ বাতিলের কথা জানানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
‘উইং অব জায়ন’ হলো ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বিমান। এবারের সফরে সেটি JFK-এর পরিবর্তে নিউ জার্সির Newark অথবা কাছের সামরিক বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে—এটি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে; বিমানবন্দর পরিবর্তনের বিষয়ে সব বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

