আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ দিনে মস্কোসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার খবরের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থক ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।
সোমবার প্রকাশিত প্রায় চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর ইউনাইটেড রাশিয়া ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। দলটি ৪৫০ আসনের স্টেট দুমায় ৩৫৫টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। এতে দলটি পার্লামেন্টে সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটি দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। তিন দিন ধরে ভোটগ্রহণ চলে ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর। একই সময়ে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনে বিরোধী কণ্ঠের অংশগ্রহণ সীমিত
এবারের নির্বাচনে ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতা করা একাধিক রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। যুদ্ধবিরোধী দল ইয়াবলোকোর জাতীয় পর্যায়ের প্রার্থিতা ও প্রতীক নিয়েও বাধা ছিল। তবে দলটি নোভগোরোদ আঞ্চলিক পার্লামেন্টে ৫ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ার পথে রয়েছে বলে Reuters জানিয়েছে।
এপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ ছিল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং বহু বিরোধী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাননি। রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন অবশ্য ভোটকে নিয়মমাফিক ও স্বচ্ছ বলে বর্ণনা করেছে।
প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, কমিউনিস্ট পার্টি ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ, এলডিপিআর ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং নিউ পিপল পার্টি ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
ভোটের শেষ দিনে মস্কোয় বড় ড্রোন হামলা
নির্বাচনের শেষ দিন রোববার মস্কো ও আশপাশের এলাকায় ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়। রাশিয়ার কর্মকর্তারা এটিকে রাজধানী লক্ষ্য করে সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, শত শত ড্রোন রাজধানী লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। মস্কোর তেল শোধনাগার ও একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও জানানো হয়। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভের মতে, হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ১১০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কো অঞ্চলে চালানো দূরপাল্লার হামলাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার জ্বালানি ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি রাশিয়ার
ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনে আরও হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামো ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর জবাবে ইউক্রেনের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখা হবে। ইতোমধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক ও সরবরাহ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে মস্কো।
অন্যদিকে ইউক্রেনও রুশ সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে ড্রোন হামলার মাত্রা বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

