প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে হৃদয়কে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে তাঁকে এ নোটিশ দেওয়া হয়।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত নোটিশে সাজ্জাদ হোসেনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
যে পোস্টের পর শোকজ
রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট দেন সাজ্জাদ হোসেন। সেখানে তিনি লেখেন, ছাত্ররাজনীতিতে বিএনপির যেসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, তার অনেকগুলোই তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ছিল। নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোরও প্রতিবাদ জানান তিনি।
পোস্টের পর তাঁকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদে তলব করা হয়। নোটিশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজির হয়ে তাঁকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
‘আমি সংগঠনের প্রতি অনুগত’
শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিনি সংগঠনের প্রতি অনুগত। তাঁকে ডেকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে এবং তিনি যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দেবেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, শোকজ দেওয়া হয়েছে—এটি তিনি জানেন। তবে ঠিক কোন কারণে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
একসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে চার ধরনের জ্বালানির দাম
এদিকে রোববার রাতে সরকারের সিদ্ধান্তে দেশের চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২০ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে নতুন মূল্য নির্ধারণের কথা জানানো হয়।
এর আগে এপ্রিল মাসে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা লিটারে নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নতুন মূল্য ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যেই মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের একজন নেতার ফেসবুক পোস্ট এবং পরবর্তী শোকজের বিষয়টি সামনে এসেছে।

