অর্থনীতি ডেস্ক
মহেশখালীর দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে দৈনিক ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি) উঠেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পেট্রোবাংলার তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট সরবরাহ হওয়া গ্যাসের মধ্যে ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট এসেছে দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে। আর আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে এসেছে ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট।
সোমবার রাত থেকেই এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় মোট সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৫৮২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ছিল ১ হাজার ৬০২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি ছিল ৯৮০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে একই দিন রাত ৮টায় মোট সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৬২ মিলিয়ন ঘনফুট। তখন এলএনজি থেকে পাওয়া গিয়েছিল ৭৬২ মিলিয়ন ঘনফুট।
সম্প্রতি এক্সিলারেট এফএসআরইউতে দুর্ঘটনার পর জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। বর্তমানে সরবরাহ বেড়ে দুর্ঘটনার আগের সময়ের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে সরবরাহ বাড়লেও দেশের মোট চাহিদার তুলনায় এখনও ঘাটতি রয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছিলেন, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে।
সেই হিসাবে মঙ্গলবার দুপুরের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট কম।
এর আগে তিতুমীর জানিয়েছিলেন, দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট দেশীয় গ্যাসের সঙ্গে প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি পাওয়া গেলে জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে থাকবে।
মঙ্গলবার দুপুরের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় ও আমদানি করা গ্যাসের সম্মিলিত সরবরাহ সেই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

