ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আহত এক বাংলাদেশি ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিস্তারিত জানতে ও প্রতিবাদ জানাতে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে।
নিহত বাংলাদেশির নাম আসাদুল হক (৩৮)। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ইদ্রইল গ্রামের বাসিন্দা।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৪২ ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে পীরগঞ্জের বৈরচুনা সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতের প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে বিএসএফের চকশিবানন্দ ক্যাম্পের সদস্যরা বাংলাদেশি একটি চোরাকারবারি দলের ওপর গুলি চালান। এতে আসাদুল হক গুলিবিদ্ধ হন।
পরে বিএসএফ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে তার মৃত্যু হয়।
বিজিবি বলছে, আসাদুল হক তাদের তথ্য অনুযায়ী একজন চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি ছিলেন এবং অবৈধ মানবপাচারের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পীরগঞ্জের বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী জানান, ভারতীয় গণমাধ্যমে আসাদুলের মৃত্যুর খবর জানার পর তিনি তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি বিজিবিকে জানান।
বিজিবির দিনাজপুর ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন বলেন, ভারতীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছে বিজিবি। বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
তিনি জানান, ঘটনার বিস্তারিত জানতে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে রোববার বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

